ইবাদতের সময়

যাকাত ক্যালকুলেটর

যাকাত ক্যালকুলেটর ২০২৬ | বাংলা যাকাতের হিসাব ও নির্দেশিকা

যাকাত ক্যালকুলেটর ২০২৬

বাংলাদেশের জন্য সঠিক ও সহজ যাকাত হিসাব | স্বর্ণ, নগদ, ব্যবসা সব এক জায়গায়

নগদ ও গচ্ছিত সম্পদ
ব্যবসা ও বিনিয়োগ
ঋণ ও বকেয়া দায় (বিয়োগ হবে)

যাকাতযোগ্য নিট সম্পদের পরিমাণ

৳ ০.০০

আপনার প্রদেয় যাকাত (২.৫%)

৳ ০.০০
নিসাব হিসাব করা হচ্ছে...
📖 যাকাতের খুঁটিনাটি : যা জানা জরুরি

আসসালামু আলাইকুম! যাকাত মানে শুধু টাকা দেওয়া না, এটা ইবাদত। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটা। আমাদের অনেকের মাথায় হাজারো প্রশ্ন থাকে, যেমন যাকাত কাকে বলে? যাকাতের হিসাব কিভাবে করে? কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়? তাই আজ আমরা দাদু-নানির গল্পের মতো সহজ ভাষায় সেগুলো বলব। চলুন শুরু করি!

যাকাত শব্দের অর্থ কি? আরবিতে যাকাত মানে পবিত্রতা, বৃদ্ধি আর বরকত। মানে আমরা যখন সম্পদের যাকাত দিই, তখন সম্পদ পবিত্র হয়, আর আল্লাহ বাকি টাকায় বরকত দেন। বেশ মিষ্টি একটা কথা না?

যাকাত কাকে বলে? সহজভাবে বললে, আল্লাহ যাদের উপর ধনী করেছেন, তারা তাদের নির্দিষ্ট সম্পদের একটা নির্দিষ্ট অংশ (২.৫%) বন্টন করে ফকির, মিসকিন আর কিছু নির্দিষ্ট খাতে। এটাই যাকাত। কিন্তু হ্যাঁ, শুধু ইচ্ছে করলেই হয় না, কিছু শর্ত আছে।

⭐ যাকাত কাদের উপর ফরজ?

মুসলিম হওয়া, বুদ্ধি থাকা, বালেগ হওয়া (প্রাপ্তবয়স্ক), স্বাধীন হওয়া আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া এবং সেই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া। যদি কারও কাছে নিসাবের কম থাকে তাহলে যাকাত ফরজ হয় না। খুবই দয়াময় বিধান!

📌 যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি?

মূলত পাঁচটা বড় শর্ত: ১. ইসলাম, ২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, ৩. সুস্থ মস্তিষ্ক, ৪. নিসাবের মালিক হওয়া, ৫. এক বছর অতিবাহিত হওয়া। আরবি পরিভাষায় একে ‘হাওলান’ বলে।

💰 কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ?

সোনা-রূপা, নগদ টাকা (যা হাতে বা ব্যাংকে), ব্যবসার পণ্য, শেয়ার বা বিনিয়োগ, পাওনা টাকা, গবাদিপশু, কৃষি ফসল। তবে আমাদের ক্যালকুলেটরে আমরা মূলত সোনা, রুপা, নগদ, ব্যবসা ও বিনিয়োগের হিসাব দেখিয়েছি। নগদ যাকাত ক্যালকুলেটর, স্বর্ণের যাকাত ক্যালকুলেটর রুপার যাকাত ক্যালকুলেটর সবই আপনি এখানে পাবেন।

🏅 কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয়?

হাদীস শরীফে আছে, ৭.৫ তোলা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মালিক হলে যাকাত দিতে হবে। অর্থাৎ ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ। কিন্তু বর্তমানে অনেকে রূপার নিসাব ধরে যাকাত দেন, যেটা ফকির-মিসকিনের জন্য বেশি উপকারী।

📆 বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?

এটা নির্ভর করে রুপার দামের উপর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আলেমরা বলেন, ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার দাম যত হয়, সেটাই মূল নিসাব। আমাদের টুলে আপনি রূপার দাম নিজে বসাতে পারেন। ধরুন, রূপা প্রতি গ্রাম ১৬০ টাকা, তাহলে নিসাব হয় প্রায় ৯৮,০০০ টাকার কাছাকাছি। সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হবে – সেই উত্তর ওই নিসাবের সমান টাকার বেশি থাকলে।

📊 যাকাতের নিসাব কি? আর যাকাতের হিসাব কিভাবে?

নিসাব মানে সেই সীমারেখা, যার নিচে থাকলে যাকাত নেই। যাকাতের হিসাব খুব সহজ: সব সম্পদ (নগদ, সোনার দাম, রূপার দাম, ব্যবসার পণ্য) যোগ করে মাসিক খরচ আর ঋণ বাদ দিন। বাকি টাকার ২.৫% (বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ) হলো যাকাত। আমাদের এই যাকাত ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ একদম সহজেই করে দেয়, কষ্ট নেই! ইসলামিক ফাউন্ডেশন যাকাত ক্যালকুলেটর ও একই পদ্ধতি ব্যবহার করে।


যাকাতের খাত কয়টি ও যাকাতের খাতগুলো কি কি? পবিত্র কুরআনে সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ৮টি খাত বলেছেন। (১) ফকির (অতি গরীব), (২) মিসকিন (দুঃস্থ), (৩) যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, (৪) মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (যাদের ইসলামের প্রতি আগ্রহী করা), (৫) দাস মুক্তি, (৬) ঋণগ্রস্ত, (৭) ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে জিহাদ বা কল্যাণমূলক কাজ), (৮) মুসাফির (পথের পথিক যে অসহায়)। এই ৮ খাতেই যাকাত দেওয়া যায়।

🤲 যাকাত দেওয়ার নিয়ম কেমন?

প্রথমে নিয়ত করা জরুরি, মনে মনে বলা “আমি আল্লাহর জন্য যাকাত দিচ্ছি”। এরপর নিজের এলাকার গরিবদের আগে দেওয়া ভাল। তবে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা হকদার, তাদের দিলে সওয়াব বেশি। যাকাতের টাকা হাতে তুলে দিতে পারেন, অথবা ব্যাংক বা এজেন্টের মাধ্যমেও দেওয়া যায়। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, যাদের উপর যাকাত দেওয়া নিষেধ, যেমন বাবা-মা, সন্তান, স্ত্রী এদেরকে যাকাত দেওয়া যায় না।

🧕 যাকাত কাদের দেয়া যাবে?

উপরের ৮ খাতের মানুষদেরই যাকাত দেওয়া যায়। তবে বেশি উপকারী হলো, যারা আর্থিকভাবে অসহায় কিন্তু চায় না হাত পেতে নিতে, তাদের খুঁজে দেওয়া। নবীজি (সা.) বলেছেন, সৎ ও লজ্জাশীল গরীবকে চিনে যাকাত দিতে।

⏳ যাকাত কখন ফরজ হয়?

যখন কোনো মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক পূর্ণ চন্দ্র বছর (হিজরি সন) থাকে, তখনই যাকাত ফরজ হয়। অর্থাৎ যেদিন প্রথম নিসাব হলো, তার এক বছর পর যাকাত দিতে হবে। অনেকেই রমজান মাসে দিয়ে থাকেন, সেটিও উত্তম।

যাকাত ক্যালকুলেটর ২০২৬ আমরা বানিয়েছি আপনার যাকাতের হিসাব যেন কষ্ট ছাড়া হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যাকাত ক্যালকুলেটর ও বাংলাদেশ সরকারি নির্দেশনায় আমরা সেটাই অনুসরণ করেছি। নগদ যাকাত ক্যালকুলেটর আর স্বর্ণের যাকাত ক্যালকুলেটর আলাদা করে না খুঁজে, এখানেই সোনা-রূপা-নগদ সব মিলিয়ে হিসাব হয়ে যায়। আশা করি, এখন যাকাতের নিসাব কি, কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয়, সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হবে এই প্রশ্নগুলো আর জটিল লাগছে না।

যাকাত ক্যালকুলেটর টুলটিতে সোনা আর রুপার বাজার দর বসিয়ে নিন (বর্তমান দর অনুযায়ী), তারপর আপনার নগদ, স্বর্ণের ওজন, ব্যবসার পণ্য লিখে ফেলুন। নিচে ঋণ লিখুন আর বোতাম চাপার দরকার নেই, সাথে সাথেই রেজাল্ট চলে আসবে। ইনশাআল্লাহ, এতে যাকাত দেওয়া আরও সহজ হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে যথাযথ যাকাত আদায় করার তৌফিক দিন।